প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০২:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
Police Bureau of Investigation (পিবিআই) চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা ষাটোর্ধ্ব মজিবুর রহমান খান-এর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ছেলে মোহাম্মদ বেলাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে বাবাকে হত্যা করেন।
সোমবার (১৫ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগরের পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং জমি বিক্রিতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেলাল তার এক পরিচিত নারী ও সহযোগী আব্দুল জলিল-কে সঙ্গে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তদন্তে জানা যায়, মজিবুর রহমান চট্টগ্রামের পূর্ব চাম্বল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন ও জমি বিক্রি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, মজিবুর রহমান তার কিছু জমি বিক্রি করে দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়েকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন এবং পরে আরও জমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে বেলাল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্যমতে, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক নারী মজিবুর রহমানের সঙ্গে ফোনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাকে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ডেকে আনেন। সেখানে তাকে অচেতন করার পর একটি মাইক্রোবাসে করে অন্যত্র নেওয়া হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মৃত্যুর পর মরদেহ নগরীর উপকূলসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
ঘটনার পর মজিবুর রহমানের মেয়ে সালমা খানম তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের হলে তদন্তভার পায় পিবিআই।
সংস্থাটি জানায়, দীর্ঘ তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রথমে বেলালকে এবং পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলেও পিবিআই জানিয়েছে।
দ্রষ্টব্য: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে তাদের আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না।
মন্তব্য করুন