প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ০৮:৪১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে স্বাগত বিশ্বনেতাদের

ছবি সংগ্রীহিত

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। চুক্তির আওতায় ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে আঞ্চলিক সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতা যেন টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আরও বিস্তৃত আলোচনার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ সংলাপেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গঠনমূলক মনোভাব বজায় রাখবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য অগ্রগতি হলে তারা সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেবে। দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, তার দেশ বরাবরই উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি এই সমঝোতাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স চুক্তিটিকে যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের জটিল সংকট মোকাবিলায় কূটনীতি ও আলোচনাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

জানা গেছে, রোববার রাতে সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

চুক্তির আওতায় ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন