প্রকাশিত: ৬ ঘন্টা আগে, ১১:০১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

যশোরে ‘এসি নষ্ট’ অজুহাতে বন্ধ এটিএম বুথ, নগদ সংকটে ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

ছবি সংগ্রীহিত

 

যশোরে ইসলামী ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও এটিএম বুথগুলোতে নগদ অর্থের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ গ্রাহকরা।

রোববার (১৪ জুন) শহরের আরএন রোডে ইসলামী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংক খোলার আগেই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক টাকা উত্তোলনের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে চেক নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত অর্থ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, যশোরে ইসলামী ব্যাংকের একটি করপোরেট শাখা এবং সিটি প্লাজা ও পালবাড়ি এলাকায় দুটি উপশাখা রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, সব শাখাতেই একই ধরনের নগদ সংকট বিরাজ করছে, ফলে অনেককে টাকা না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ জানান, পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করেও তিনি প্রয়োজনীয় অর্থ পাননি। তার ভাষায়, নিজের টাকা তুলতেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা আগে কখনও হয়নি।

অন্য এক গ্রাহক শাওন জানান, জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও তিনি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আরেক গ্রাহক শামসুজ্জামান সজন বলেন, দেড় লাখ টাকার চেক থাকলেও তাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

এটিএম বুথগুলোতেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথে কোথাও ‘এসি নষ্ট’ লেখা দিয়ে আংশিকভাবে শাটার নামানো, আবার কোথাও পুরোপুরি বুথ বন্ধ পাওয়া গেছে। এতে এটিএম নির্ভর গ্রাহকরাও নগদ অর্থ তুলতে পারেননি।

ভুক্তভোগী আমিনুর রহমান জানান, কয়েকটি বুথে চেষ্টা করেও তিনি টাকা তুলতে ব্যর্থ হন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে এ সংকট চললেও কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়িক লেনদেন, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ ও দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের যশোর অঞ্চলের জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ বজলুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকে সাময়িক তারল্য সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে শিগগিরই তারল্য পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নগদ সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে চেক নিষ্পত্তি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে ব্যাংকের আশ্বাসে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না গ্রাহকরা। দ্রুত নগদ অর্থ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন