প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মসমালোচনামূলক এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ‘আধা-বিপ্লবী, আধা-আপসী এক জীবন’ শিরোনামের ওই লেখায় তিনি নিজের জীবন, ক্যারিয়ার, সিদ্ধান্ত ও বিতর্কিত নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে ফারুকী লেখেন, জীবনের দীর্ঘ পথচলা পেরিয়ে পেছনে তাকালে অনেক ঘটনাই যেন সিনেমার দৃশ্যের মতো ভেসে ওঠে। জন্মদিনকে তিনি আত্মবিশ্লেষণের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন বলেও উল্লেখ করেন।
ক্যারিয়ারের শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, নিজের ভাষায় সংলাপ ব্যবহারের উদ্যোগের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তৎকালীন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। অভিনয়শৈলী ও অভিনেতা নির্বাচনে ভিন্নধর্মী চিন্তার জন্যও নানা সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। সে সময় প্রয়াত নির্মাতা তারেক মাসুদ তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও খোলামেলা বক্তব্য দেন ফারুকী। তিনি বলেন, পোশাকের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে তিনি সবসময়ই সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন। তবে সব সময় সব কথা বলা সম্ভব হয়নি এবং জীবনের সব সিদ্ধান্তই যে সঠিক ছিল, তা নয়—এমন স্বীকারোক্তিও করেন তিনি। তার ভাষায়, “জীবন তো ভুলেরই পাঠশালা।”
স্ট্যাটাসে ‘জুলাই’ প্রসঙ্গকে নিজের প্রজন্মের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ইস্যুতে অবস্থান নেওয়ার কারণে ব্যক্তিগতভাবে বন্ধু হারিয়েছেন, যদিও নতুন বন্ধুও পেয়েছেন।
এছাড়া এক বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগের মতো তার জন্মদিন নিয়ে এখন তেমন আলোচনা দেখা যায় না। এমনকি একটি চলচ্চিত্রবিষয়ক লেখায় অন্য নির্মাতাদের নাম থাকলেও সেখানে তাকে রাখা হয়নি—বিষয়টি তিনি হাস্যরসের সঙ্গেই নিয়েছেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে ফারুকী তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিনের সহধর্মিণী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, সন্তান, পরিবার, বন্ধু ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তার নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আসলে দর্শকদের সঙ্গে এক ধরনের চলমান কথোপকথন, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন