প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সংসদে নাহিদের হরেক,
ইতিহাসে ঢুকলো পেরেক।
"""""""""""""""""""""""""""""""""
৫৫ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশে হাজার হাজার সংসদ সদস্য দেখেছে জাতি, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধের বিপরীত মেরুতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যাকারী বর্বর খুনি "মুজিব বাহিনী"-নিয়ে কেউ কখনো সংসদে বলেনি আগে। এর কারণ হলো ২৪ বছর একাই রাষ্ট্র চালিয়েছে মুজিব ও তার মেয়ে হাসিনা। এরশাদও ভারতপন্থী হওয়ায় বিতর্কমুক্ত থাকতে চেয়েছে। আর বিএনপি হলো যুদ্ধের ৮ বছর পরে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক দল। বিএনপিতে সবাই একই মতের ছিলোনা, জাসদ, আওয়ামীলীগ, বাম, ডান, ইসলামীক; সবই ছিলো বিএনপিতে। বিএনপি তাই একই কারণে সংসদে মুজিব বাহিনীর বর্বরতা নিয়ে বলেনি আওয়ামীলীগের চক্ষুশূল হতে চায়নি বলে। মানুষের কাছে তখন বিএনপির একটা সুনাম ছিলো "ভদ্রলোকের দল বিএনপি"-হিসেবে। কিন্তু ইতিহাসের সত্যিটা গতকাল সংসদে বলে "হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে"-দিলো এনসিপির নাহিদ নামের নবীন সদস্য। চলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব বাহিনী কেমন ছিলো এর নমুনা সহজে বুঝে নিইঃ
ধরেন, আপনার বাড়ি যদি ট্রাংকরোড সংলগ্ন হয় এবং সেখানে যদি যাত্রীবাহী বাস এক্সিডেন্ট হয়, তবে তিন ধরণের মানুষ দেখতে পাবেন আপনি।
১| সবার আগে প্রথম একদল দৌড়ে গিয়েই যাত্রীদের বাঁচানোর ভূমিকায় টাকা, মোবাইল, অলঙ্কার লুটপাট করবে, আর আফসোস করবে বাঁচাবার ভূমিকায় যাতে কেউ বুঝতে না পারে; বিপদের সময়ে সবাই হতাহতদের নিয়ে ব্যস্ত ও চিন্তায় থাকায় এই লুটপাটকারী জালিমদের বিষয়ে ভাবিত থাকেনা কেউ।
২| অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে যাবে। এরা দেখে, এই অনাকাঙ্খিত ঘটনায় অপ্রস্তুত ও হতভম্ব হয়ে দোয়া দরুদ পড়ে।এরা চিন্তিত কিন্তু উপস্থিত জ্ঞানে একধরণের নিরুপায়, বলা যায় দর্শকের ভূমিকায়।
৩| এরা নিঃস্বার্থে হতাহতদের বাঁচায় এবং তাদের জানমাল উদ্ধারে কাজ করে। আশেপাশে যে কোনো গাড়ি বা মাইক্রো দিয়ে হতাহতদের হাসপাতালে পাঠায়;অনেকে নিজেই হাসপাতালে নিয়ে যায়।
- আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে যদি গাড়ি এক্সিডেন্টে বিচার করেন তাহলে তিন নাম্বারের লোকগুলোই হলো আসল মুক্তিযোদ্ধা। দুই নাম্বার হলো যারা পাকিস্তান রাষ্ট্রটি আলাদা হয়ে যাক তা চাননি এবং কি করা যায় বা তাৎক্ষণিক ভাবনায় নিরুপায় কিন্তু চিন্তিত। আর প্রথম নাম্বারের লোকগুলোই হলো মুজিব বাহিনী।
-মুজিব বাহিনীর পূর্ণ নাম BLF তথা Bangladesh Liberation Force। এটা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র দ্বারা প্রশিক্ষিত। যুদ্ধের সময়ে তাজ উদ্দিন সরকারের বিপরীতে বলা যায় সরাসরি বিরুদ্ধে গিয়ে চারজনের নেতৃত্বে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়।তারা হলেনঃ
১| শেখ ফজলুল হক মনি।
২| তোফায়েল আহমেদ।
৩| আবদুর রাজ্জাক। ও
৪| সিরাজুল আলম খান।
- এরা মনে করতো তাজ উদ্দিনের নেতৃত্ব মানা মানেই যুদ্ধের সব কৃতিত্ব তাজ উদ্দিনের আওতাধীন চলে যাওয়া, তাতে শেখ মুজিব নস্যি হয়ে যায়। এই হিংসা থেকেই তারা যুদ্ধের পুরো ৯ মাসই তাজ উদ্দিন ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। যুদ্ধে অংশ নেয়া বাম ঘরানার শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করেছে মুজিব বাহিনী। সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে ঢুকে আওয়ামীলীগ ছাড়া বাকি যে কারো বাড়ি ঘর ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট করে রাতেই ফের ভারতে চলে যেতো। এরা লুটপাটকারী হলেও দেশ স্বাধীনের পর এদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গ্রহণ করে মুজিব। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে মুজিব বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা হয়নি।ফজলুর রহমান ছিলো সেই খুনি "মুজিব বাহিনী"-র অন্যতম জালিম। গতকাল যখন স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর মুজিব বাহিনীর বর্বরতার কথা তুলে ধরেন নাহিদ, তখন ক্যামেরার চোখ ফজলুর রহমানের দিকে যেতেই তাকে বিব্রত দেখা গেলো। আশা করি নাহিদের আবেদনে বিএনপি সরকার গুরুত্ব দেবে। তাহলে সব বেঁচে যাওয়া খুনি মুজিব বাহিনীর বিচার হবে। এখন থেকে ফজলুর রহমান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা চাপা মারা ভুলে যাবে, এটা নিশ্চিত। তবে বিচার শুরু হলে ফজলুর রহমান তার আগেই হার্টফেল করে মারা যেতে পারে। কারণ রাজাকার বলতে বলতে হাসিনা ভাবেনি তার পরিণতি কি হবে, একইভাবে মুজিব বাহিনী সদস্য হয়েও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলতে বলতে ফজলুর রহমান ভাবেইনি এভাবেই একদিন সংসদে জাতির কাছে হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দেবে এই প্রজন্মের নাহিদ নামের কোনো নবীন সংসদ সদস্য।
মন্তব্য করুন