প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২৬, ১২:২০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ অচলাবস্থায় বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের শঙ্কা: এফএওর সতর্কতা

ছবি: সংগ্রীহিত

 

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান অচলাবস্থার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতির কারণে জরুরি কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এফএও বলছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সারের উচ্চমূল্যের কারণে বৈশ্বিক ফসল উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এতে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিও বলেন, পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনের সময়সূচি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তিনি জানান, এশিয়ার কিছু দেশে ইতোমধ্যে বীজ বপনের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে।

তোরিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো বড় কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এমন ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা জমিতে বেশি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সক্ষম। ফলে গম ও ভুট্টার পরিবর্তে সয়াবিন চাষ বাড়তে পারে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অনেক কৃষক জৈব জ্বালানি উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকছেন। এর প্রভাবে গম ও সয়াবিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

এফএও সতর্ক করে বলেছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে এবং আগামী বছরে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চ পণ্যমূল্য ও খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়ছে, কারণ খাদ্য উৎপাদন কেবল কাঁচামালের ওপর নয়, জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

মন্তব্য করুন