প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানি সংকট সাময়িক নয়, সামনে বড় ঝুঁকির সতর্কতা: হোসেন জিল্লুর রহমান

ছবি: সংগ্রীহিত

 

দেশের জ্বালানি সংকটকে সাময়িক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি বরং একটি মধ্যমেয়াদি চ্যালেঞ্জ—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শনিবার (২ মে) পিপিআরসি আয়োজিত ‘জ্বালানির ফাঁদে বন্দি অর্থনীতি’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় জ্বালানি, শিল্প ও কৃষি খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বিদ্যমান সংকটকে উপলক্ষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে তা কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ওয়েবিনারে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও অমীমাংসিত সমস্যাগুলো রয়ে গেলে সংকট পুনরাবৃত্তি হবেই। এ পরিস্থিতিতে তেলের মজুত বৃদ্ধি, পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংকটকালে ভোক্তাদের আচরণও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে বলে মন্তব্য করেন পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি বলেন, আতঙ্কের কারণে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুতের প্রবণতা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। সরবরাহ কমে গেলে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, তবে বর্তমানে সরবরাহ ও দাম বৃদ্ধির কারণে চাহিদা কিছুটা কমেছে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) খোদা বকশ চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সংকটে জনগণ ধৈর্যের পরিচয় দিলেও ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতিতে সেই সহনশীলতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ট্রেড সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা দেশের আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিও প্রভাবিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম পারভেজ বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে জ্বালানি সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ অপরিহার্য।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ. সত্তার মন্ডল বলেন, কৃষিখাত ক্রমেই যন্ত্রনির্ভর হওয়ায় জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাত দীর্ঘদিন ধরেই আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা, ডলার সংকট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন সরাসরি দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। এই নির্ভরতা কমাতে না পারলে সংকটের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

মন্তব্য করুন