প্রকাশিত: ৪ মে, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

১২ বছরে ১২ হাজার গাছ: দপ্তরি আনোয়ারের সবুজ বিপ্লব কুড়িগ্রামে

আনোয়ার হোসেন। ছবি সংগ্রীহিত

 

পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হলেও স্বপ্নে বড় আনোয়ার হোসেন। ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’—এই প্রত্যয়ে গত ১২ বছর ধরে নিজের অর্থে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার গাছ রোপণ করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৬ হাজার গাছে ইতোমধ্যে ফল ও ফুল এসেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শহরের সড়ক—যেখানেই খালি জায়গা পেয়েছেন, সেখানেই গাছ লাগিয়েছেন আনোয়ার। শুধু রোপণেই থেমে থাকেননি, নিজ হাতে নিয়মিত পরিচর্যাও করছেন এসব গাছের।

আনোয়ার হোসেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের টাপুরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি টাপুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে কর্মরত। নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি ভালোবাসা ছিল। সেই ভালোবাসা থেকেই এই কাজ শুরু করেছি। আরও বেশি গাছ লাগানোর জন্য একটি পরিত্যক্ত কবরস্থান পরিষ্কার করে সেখানে চারা উৎপাদন করছি।

তিনি জানান, শহরের তারামন বিবি সড়কে প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে ৫০০টির মতো গাছ লাগিয়েছেন। এছাড়া হলোখানা ইউনিয়ন থেকে পৌরসভা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কে গাছ রোপণ করেছেন। বাস টার্মিনাল থেকে সার্কিট হাউস সড়ক পর্যন্ত সোনালু গাছ লাগিয়ে পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়িয়েছেন।

শুধু গাছ লাগানো নয়, শহরের সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার) পরিষ্কার করে সেখানে বিভিন্ন ফুলের গাছও রোপণ করেছেন তিনি। কৃষ্ণচূড়া, বকুল, বটসহ নানা প্রজাতির গাছ তার এই উদ্যোগকে করেছে বৈচিত্র্যময়।

স্থানীয় শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই আনোয়ার চাচার কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছি। তিনি অনেক কষ্ট করে কাজ করেন। সরকারি সহায়তা পেলে আরও ভালো করতে পারবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ হোসেন বলেন, আনোয়ার আমাদের এলাকার গর্ব। ছোট চাকরি করেও তিনি নিজের টাকায় গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন। তার উদ্যোগে এলাকার সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে।

হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থভাবে গাছ লাগিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি সহায়তা পেলে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও উদ্ভিদবিদ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, আনোয়ার হোসেন একজন অনুকরণীয় ব্যক্তি। তার এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।

একজন সাধারণ মানুষ হয়েও আনোয়ার হোসেন দেখিয়ে দিয়েছেন, দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে একাই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

মন্তব্য করুন