প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নবী-রাসুলদের জীবিকা: শ্রমের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত

 

মানবসমাজে শ্রমের মর্যাদা অপরিসীম—আর ইসলাম এই শ্রমকে ইবাদতের পর্যায়ে উন্নীত করেছে। পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জনকে সম্মানিত করা হয়েছে বিশেষভাবে। এ ক্ষেত্রে নবী-রাসুলদের জীবন আমাদের জন্য উজ্জ্বল উদাহরণ। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হয়েও তাঁরা কেউ অলস জীবনযাপন করেননি; বরং পরিশ্রমের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করেছেন।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)

Prophet Muhammad শৈশব থেকেই কর্মঠ জীবনযাপন করেছেন। হালিমা (রা.)-এর ঘরে থাকাকালে বকরী চরাতেন। কৈশোরে চাচার সঙ্গে ব্যবসায়িক সফরে যেতেন। নবুওয়তের আগে Khadija (রা.)-এর পণ্য নিয়ে সিরিয়া পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাঁর জীবনে শ্রম ও সততার দৃষ্টান্ত আজও অনুকরণীয়।

হজরত আদম (আ.)

Adam (আ.) ছিলেন মানবজাতির প্রথম নবী। তিনি কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিছু বর্ণনায় তাঁতের কাজের কথাও পাওয়া যায়। মানবসভ্যতার প্রাথমিক নানা শিল্প ও কাজের সূচনা তাঁর হাত ধরেই হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

হজরত শিস (আ.)

Seth (আ.), আদম (আ.)-এর সন্তান, তিনিও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই পথেই জীবিকা অর্জন করতেন।

হজরত ইদরিস (আ.)

Idris (আ.) ছিলেন সেলাইবিদ্যার পথিকৃৎ। তিনি কাপড় সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। লেখার জন্য কলম ব্যবহারের সূচনাও তাঁর মাধ্যমে হয়েছে বলে প্রচলিত রয়েছে।

হজরত নুহ (আ.)

Noah (আ.) ছিলেন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি। আল্লাহর নির্দেশে তিনি বিশাল নৌকা নির্মাণ করেন, যা মহাপ্লাবন থেকে মানুষকে রক্ষা করেছিল।

হজরত ইবরাহিম (আ.)

Abraham (আ.) ছিলেন ব্যবসায়ী, পশুপালক ও কৃষক। তাঁর পুত্র Ishmael (আ.)-ও শিকার ও নির্মাণকাজে দক্ষ ছিলেন। বাবা-ছেলে মিলে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন—যা আজও ইসলামের অন্যতম পবিত্র নিদর্শন।

হজরত ইউসুফ (আ.)

Joseph (আ.) মিসরের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় তাঁর পরিকল্পনা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করতেন।

হজরত মুসা (আ.)

Moses (আ.) দীর্ঘ সময় পশুপালনের কাজ করেছেন। শ্বশুর Shuayb (আ.)-এর কাছে প্রায় দশ বছর এ দায়িত্ব পালন করেন।

হজরত দাউদ (আ.)

David (আ.) নিজ হাতে লোহা গলিয়ে যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করতেন। আল্লাহ তাঁকে বিশেষ দক্ষতা দিয়েছিলেন, যা দিয়ে তিনি সহজেই লোহা নমনীয় করতে পারতেন।

হজরত জাকারিয়া (আ.)

Zechariah (আ.) ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। পাশাপাশি তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের দায়িত্ব পালন করতেন এবং মারিয়ম (আ.)-এর দেখাশোনা করতেন।


উপসংহার

নবী-রাসুলদের জীবন আমাদের শেখায়—কোনো কাজই ছোট নয়। সততা, পরিশ্রম ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবনযাপনই শ্রেষ্ঠ পথ। আধুনিক জীবনে এই শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক, যেখানে শ্রমের মর্যাদা ও নৈতিকতা মানুষকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।

মন্তব্য করুন