প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কৌশল পরিবর্তন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সমতল ও অধিক নজরদারিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাধার মুখে পড়ে এখন নদীঘেরা চরাঞ্চল ও দুর্গম সীমান্তপথকে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বশীল সূত্র, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুরের বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিকভাবে দুর্গম। নদী, চরাঞ্চল ও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এসব এলাকাকে নিরাপত্তার দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতে সীমান্তের অপেক্ষাকৃত সমতল এলাকাগুলো দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে নজরদারি বৃদ্ধির কারণে নতুন নতুন পথ খোঁজা হচ্ছে। বিজিবির টহল জোরদার এবং সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে আগের অনেক কৌশল কার্যকর হচ্ছে না বলেও দাবি করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তে একজনকে এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে কয়েকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা সফল হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী ও চরাঞ্চলসংলগ্ন অনেক স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব রয়েছে। দুর্গম পথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
রৌমারীর এক বাসিন্দা বলেন, নদীর পাশের অনেক এলাকায় রাতে অন্ধকার থাকে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল। ফলে এসব স্থান বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, বকশীগঞ্জ সীমান্তের এক বাসিন্দার দাবি, সীমান্ত এলাকায় আরও আধুনিক আলোকসজ্জা ও নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে অনুপ্রবেশের যেকোনো চেষ্টা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সীমান্ত শুধু জনবলের ওপর নির্ভর করে নিরাপদ রাখা কঠিন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, উন্নত অবকাঠামো এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের গবেষক মোস্তাকিম আকাশ মনে করেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী টহলের ধরন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত টহল ও জনবল মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সীমান্তসংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন