প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ০৮:৫৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
পঞ্চগড় জেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গভীর নলকূপ ও সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রায় ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পকে ঘিরে শুরু থেকেই অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০০ মিলিমিটার ব্যাসের গভীর নলকূপ এবং ১ দশমিক ৫ হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জমিলা খাতুন ট্রেডার্স’-কে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ লাখ টাকারও বেশি।
তবে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে অন্তত ৯০ থেকে ১০০ ফুট গভীরতায় বোরিং করার কথা, সেখানে অনেক স্থানে ৫০ থেকে ৭০ ফুটের মধ্যেই কাজ শেষ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের পাইপ ও ফিল্টার ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রকল্পের ব্যয়, বোরিংয়ের গভীরতা, ব্যবহৃত মালামালের মান কিংবা কাজের ধরন সম্পর্কে তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই ছুটির পর বা সন্ধ্যার দিকে দ্রুত কাজ শেষ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর শুরু হওয়া প্রকল্পটি ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে। এখনও অনেক বিদ্যালয়ে কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, কোথাও আবার পাম্প স্থাপনই করা হয়নি।
প্রকল্পের কার্যাদেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাজ শুরুর অনেক পরে কার্যাদেশ তাদের হাতে পৌঁছেছে। ফলে প্রকল্পের শর্তাবলি ও ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না।
সদর উপজেলার ছেতনাই টেংগনমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম বলেন, কত ফুট বোরিং করা হচ্ছে বা কী ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। আমরা উপস্থিত থাকার অনুরোধ করলেও স্কুল ছুটির পর তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হয়েছে, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
তেলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শমসের আলীও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, কাজ শুরুর আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা প্রকল্পের বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা অফিসকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে নিম্নমানের ও সিলবিহীন ফিল্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। যথাযথভাবে অবহিত না করায় কাজের গুণগত মান তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান বলেন, সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের বোরিং কাজ শেষ করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগে। এ কারণে ঠিকাদার সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুন মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। তাঁর দাবি, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি চলছে এবং তেঁতুলিয়া এলাকায় পাথরের স্তর থাকায় ৭০ ফুটের বেশি গভীরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অন্যান্য এলাকায় ৯০ থেকে ১০০ ফুট গভীরতায় বোরিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে নেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ ও ব্যয়ের সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন