প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০৭:২২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে রোগী, স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রমের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. শামীমা আক্তার জেলা শহরে বসবাস করে সেখান থেকে হাসপাতালে যাতায়াত করেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে সময়মতো উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কারণে হাসপাতালের প্রশাসনিক তদারকি ও সেবা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে, কয়েকটি স্থানে ছাদের আস্তরণ খসে পড়ছে এবং পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের বেশ কয়েকটি পানির ট্যাব নষ্ট থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের বাইরে থেকে বোতলজাত পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী জানান, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাব রয়েছে। ওয়ার্ডে দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজন অভিযোগ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু চিকিৎসক ও নার্সের দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার আশায় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, “পেটের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা দেখে আমি দ্রুত জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি।”

স্থানীয় যুবদল নেতা সুহেল বলেন, “হাসপাতালের পুকুরসহ নিজস্ব কিছু আয়ের উৎস রয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হয়নি। এসব খাতে বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।”

এদিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী হেড ক্লার্ক গোবিন্দ লাল দাসকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ তার সম্পদের উৎস এবং হাসপাতালের বিভিন্ন ব্যয় খাতের স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোবিন্দ লাল দাসের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

একই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তারের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন এক প্রসূতি নারী বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক জটিলতায় পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি আহত একটি শিশুর জন্ম দেন। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতভাবে পেতে পারেন।

(প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করা হবে।)

মন্তব্য করুন