প্রকাশিত: ৫ জুন, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার:
নৃশংসতা ছড়ানো এবং কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির দায়ে অনলাইন গেম ‘ফ্রি ফায়ার’ এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে উচ্চ আদালত। তবে এই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও বিটিআরসির নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে রাজধানীতে প্রকাশ্যে বড় ধরনের ইভেন্ট আয়োজনের ডাক দিয়েছে ফ্রিফায়ার কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল ৬ জুন বিকেল ৪ টায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) নবরাত্রী হল-৪ এ অফলাইনে ফ্রি ফায়ারের গ্রান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ফ্রি ফায়ার কর্তৃপক্ষ গত ২৬শে মে গেমটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেয়। গত বছরও একই রকম ইভেন্ট আয়োজনের শেষ পর্যায়ে প্রসাশনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায়। এ বছর আবার তারা সক্রিয়। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বিকালে ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে আইসিসিবিতে।
২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের রিট পিটিশন (৫৮৮৩/২০২১) অনুযায়ী নৃশংসতা ছড়ানো ও ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে গেমটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ফ্রি ফায়ার কর্তৃপক্ষের আবেদন আদালত খারিজ করে দেওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। কিন্তু ‘অদৃশ্য শক্তির’ জোরে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুধু চালু নয়, বরং আরও বিস্তৃত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন এর সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ আমাদের সকালকে বলেন, অনলাইন গেমসহ বিভিন্ন অনলাইন কেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বাইরে চলে যাচ্ছে। এসবের দিকে নজরদারির অভাবে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অর্থ পাচার বন্ধে অনলাইন কেন্দ্রিক আর্থিক লেনদেনগুলোর প্রতি কড়া নজরদারি দরকার।
তিনি বলেন, এখন গ্রাম পর্যায়েও ইন্টারনেট অনেক সহজলভ্য। এই জন্য অনলাইন জুয়ায় তরুণরা ব্যাপকভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাইবার সুরক্ষার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরই জনস্বার্থমূলক বিষয়গুলো তদারকিতে কম মনোযোগ দিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর আরও বেশি তৎপর হওয়া উচিত।
অভিযোগ রয়েছে, ফ্রীফায়ারের কিছু কর্মকর্তা খোদ বাংলাদেশে অবস্থান করে অবৈধভাবে এই বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন। ফ্রি ফায়ারের কয়েকজন কর্মকর্তার নামও জানতে পেরেছে এশিয়া পোস্ট। এর মধ্যে চেং শেন (ডিউ), অন্যন্যো মাসুদ, ইশতিয়াক আহমেদ, ফারহান, মোঃ আজাদ অন্যতম।
তবে তাদের কারো সঙ্গে মোবাইল ফোন বা কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরে গেমটির ফেসবুক পেজের ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে কেউ সাড়া দেননি।
সিআইটির এডিশনাল এসপি (সাইবার ইনভেস্টিগেশন) খায়রুল আলম আমাদের সকালকে বলেন, আমাদের কাছে ফ্রি ফায়ারের এই ধরণের বড় ইভেন্টের কোন তথ্য ছিল না। তবে এখন জানলাম। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট টিমকে জানাব।
মন্তব্য করুন