প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ ও কৃষি কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ এবং প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করার অভিযোগে সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নে ১০ দফা দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান স্থানীয়রা।
বুধবার দুপুরে কুরবাননগর ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন পরিচালনা করেন সচেতন নাগরিক এম এ বারী সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে ১০ দফা দাবি সংবলিত মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাসুক আহমদ।
এ সময় বক্তব্য রাখেন আব্দুল মালেক, সায়েদ আলী, আতিকুর রহমান, আব্দুল্লা, শাহীন আলম, শফিক মিয়া, সালমান আহমদ, কাওছার আলম এবং কবি মাজহারুল ইসলাম।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কুরবাননগর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ ও কৃষি কার্ড বিতরণে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবায় অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষের হয়রানির চিত্র তুলে ধরে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, সরকারি অনুদান ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের সেবাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
মানববন্ধন থেকে সচেতন নাগরিকরা ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে প্রকৃত কৃষকদের নিয়ে নতুন তালিকা প্রণয়ন।
সরকারি চাল ও অন্যান্য সামগ্রী ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ।
ইউনিয়ন পরিষদের সব সেবার নির্ধারিত ফি ও তথ্য নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ।
উন্নয়নমূলক কাজের প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ।
সরকারি অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তা দ্রুত চলাচল উপযোগী করা।
জন্মনিবন্ধন সেবায় হয়রানি বন্ধ করা।
বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন বন্ধ করা।
চাল ও অন্যান্য সামগ্রী বালতি দিয়ে মাপার পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা।
রসিদ বা স্লিপ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ করা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের এসব যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মন্তব্য করুন