প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পাকিস্তান তাদের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি-এর পূর্ণাঙ্গ সিমুলেটর বাংলাদেশ-এর কাছে হস্তান্তর করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং ঢাকা-ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন মাত্রা নির্দেশ করছে।
ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিমুলেটর হস্তান্তরকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান ক্রয়চুক্তির পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধবিমান সরবরাহের আগেই পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এই সিমুলেটর পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান বাংলাদেশকে যে সিস্টেম দিয়েছে, তা কোনো সাধারণ প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম নয়; বরং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুকরণে তৈরি পূর্ণাঙ্গ জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি সিমুলেটর। এর মাধ্যমে পাইলটরা কৌশলগত মিশন, আকাশযুদ্ধ এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার বাস্তবধর্মী অনুশীলনের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া পাকিস্তান বিমান বাহিনী বাংলাদেশের পাইলটদের জন্য মুশাফ বিমান ঘাঁটি ও পাকিস্তান অ্যারোনোটিক্যাল কমপ্লেক্স-এ উন্নত প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানা গেছে। এই প্রশিক্ষণে ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর)’ বা দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ কৌশলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
চলতি মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম আনুষ্ঠানিক এয়ার স্টাফ টকসে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদ। তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব এয়ার স্টাফ (অপারেশন্স), স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার এবং জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মাহমুদ আলী খান, উইং কমান্ডার হাসান তারিক আজিজ, এয়ার কমোডর শাহ খালিদ ও আব্দুল গফুর বাজদুর। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়; বরং সামরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয় জোরদারের অংশ।
বৈঠকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমানের বহুমুখী সক্ষমতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় দাসোঁ রাফায়েল যুদ্ধবিমানের সঙ্গে তুলনামূলক কার্যকারিতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাইলট প্রশিক্ষণ ও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ ধাপগুলোর একটি। তাই আগেভাগে সিমুলেটর সরবরাহকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অংশীদারত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ পরিকল্পনার আওতায় ৪৮টি জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ কাঠামোর আওতায় সহায়তা দিতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন