প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:১৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের ১২দিন পর যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

 

 

মামুনুর রশিদ খান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের মণিরামপুরে নিজ স্ত্রীকে বন্ধুর সাথে বিয়ে দেওয়ার ১২দিন পর আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আব্দুল্লাহ মিথুন ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। প্রায় ১০ বছর আগে মধুপুর গ্রামের সাথী (২৬) নামে এক নারীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সাথীর সঙ্গে সুমন নামে মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক যুবকের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে আব্দুল্লাহ স্ত্রীকে বুঝিয়ে সম্পর্ক থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেন। পরে দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সুমনের সঙ্গে স্ত্রী সাথীর বিয়ে দেন বলে স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য। ওই বিয়ের কাবিননামায় আব্দুল্লাহ সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষরও করেন বলে জানা গেছে।

আব্দুল্লাহর চাচা এনায়েত হোসেনের দাবি, সাথী প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সুমনকে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই আব্দুল্লাহ মানসিক চাপে ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সুমন ও সাথীর যোগসাজশে আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পল্লিচিকিৎসক মুবাসসের আল মুবিন বলেন, মৃত্যুর তিন দিন আগে আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তখন তাকে মন খারাপ অবস্থায় দেখা যায়। একটি নম্বরে ফোন করে তাকে কান্নাকাটি ও ক্ষমা চাইতে দেখেন তিনি। মুবাসসেরের ভাষ্য, তখন আব্দুল্লাহ তাকে বলেছিলেন, ‘আমি একটা ভুল করে ফেলেছি। আমার স্ত্রীকে আমি নিজে উপস্থিত থেকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়েছি।’ এ সময় তিনি পারিবারিক চাপ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথাও জানিয়েছিলেন।

নিহতের মা রওশনারার অভিযোগ, পারিবারিক বিষয় নিয়ে আব্দুল্লাহকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হতো। রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সাথী এসে জানান, আব্দুল্লাহ আত্মহত্যা করেছেন। রওশনারার সন্দেহ, তার ছেলেকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাথী ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দরজা ভেঙে তাকে বাইরে বের করা হয়।

তবে নিহতের স্ত্রী সাথী হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, আব্দুল্লাহ নিজেই তাকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দিতে উদ্যোগী হন। সাথী বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আব্দুল্লাহ সুমনকে ফোন করে তার স্ত্রী ও সন্তানদের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজী অফিসে নিয়ে সুমনের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। ওই কাবিননামায় আব্দুল্লাহ সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন বলেও তিনি জানান।

সাথীর ভাষ্য, রোববার রাতে ওই বিয়ে ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

সুমন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন বলেন, আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। আব্দুল্লাহ ও সুমনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন—এমন তথ্য পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো এজাহার না দেওয়ায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফনের পর নিহতের স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

মন্তব্য করুন