প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার:
বংশাল থানা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইয়াকুব সরকার ৬০ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারের ছোট ভাই।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত দাওয়াতি সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ইয়াকুব সরকার ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ইয়াকুব সরকারকে বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এ বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করেন।
এ বিষয়ে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) সাইদুর রহমান মিন্টু জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকারকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিষয়টি অবহিত থাকার এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন ইয়াকুব সরকারের বড় ভাই ইসহাক সরকার। একই দিনে সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরাও এনসিপিতে যোগ দেন।
ইসহাক সরকার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলার সংখ্যা তিন শতাধিক বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে খালাস পান ইসহাক সরকার। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে।
মন্তব্য করুন