প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রবহমান ধাইজান নদী মাত্র পাঁচ বছর আগে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হলেও আবারও সেখানে নতুন করে খননকাজ শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নথিতে নদীটিকে ‘খাল’ হিসেবে উল্লেখ করে ৩৯ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ইজিপিপি’ কর্মসূচির আওতায় নেওয়া এই প্রকল্পের আওতায় নদীর মাত্র দেড় কিলোমিটার অংশে খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না করে বিচ্ছিন্নভাবে খনন করায় সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জলঢাকা উপজেলার দড়িভিজা বিলাঞ্চল থেকে উৎপন্ন ধাইজান নদীটি কিশোরগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনেশ্বর নদীতে মিলেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮ থেকে ২৯ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ প্রায় ৫০ মিটার। পাউবোর নথিতে এটি একটি প্রবহমান নদী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
পাউবো সূত্র আরও জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনটি প্যাকেজে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে ধাইজান নদীর পুনঃখনন করা হয়েছিল। ওই প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়। এর কয়েক বছরের মধ্যেই একই নদীতে নতুন করে খনন প্রকল্প নেওয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের একটি অংশে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বাকি অংশ আগের মতো ভরাট অবস্থায় থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার খনন করা হচ্ছে। কিন্তু এর পেছনের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার অংশ খনন না করলে এই কাজের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। বাকি অংশ খননের উদ্যোগ না নিলে বর্তমান প্রকল্প কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, নদীর এক অংশ খনন করে অন্য অংশ ভরাট থাকলে পানির প্রবাহ তৈরি হবে না। এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
আরেক বাসিন্দা করিমুল ইসলাম বলেন, নদীর পেছনের অংশে পানি চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে অতিরিক্ত পানির চাপে খনন করা অংশের পাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিক দিয়ে কাজ করার নিয়ম থাকলেও বিভিন্ন স্থানে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে নদীর তলদেশ খনন করা হচ্ছে। এতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই কয়েকটি স্থানে নদীর পাড় ধসে পড়ছে।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান বলেন, ধাইজান একটি প্রবহমান নদী। ২০১৯ সালে তিনটি প্যাকেজে নদীটির পুনঃখনন করা হয়েছিল। ওই সময় বরাদ্দের চেয়ে কম অর্থ ব্যয় হওয়ায় অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
তবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ছোট ছোট নদী অনেক সময় খালের আওতায় বিবেচনা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা যে অংশে খনন প্রয়োজন মনে করেছেন, সেখানেই কাজ করা হচ্ছে। তিনি ধাইজানকে নদী হিসেবে বিবেচনা না করার কথাও জানান।
প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকল্পের কাগজপত্র ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুধু কাজ শুরু হয়েছে।
একই নদীতে কয়েক বছরের ব্যবধানে আবারও খনন প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারি নথিতে নদীকে ‘খাল’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি যাচাই করে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন