প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৯:৫০ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বিদ্যালয় খোলার ১০ মাস পরও বই পায়নি অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

 

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার প্রায় ১০ মাস পার হতে চললেও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এখনো সব বিষয়ের পাঠ্যবই পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে বই না পেয়ে বিকল্প উপায়ে বা গাইড বই পড়ে পড়ালেখা চালাতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সরেজমিনে গিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বই না পাওয়ার এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির ১১১৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান, গণিত, ধর্ম ও বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বই একাধিক শিক্ষার্থী পায়নি। এ ছাড়া চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা এবং কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা বিষয়ের বই অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পায়নি বলে জানায়। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতেও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হিন্দুধর্ম এবং চারু ও কারুকলা বই থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

সবচেয়ে নাজুক অবস্থা নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগে। ৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জনই পায়নি কৃষি শিক্ষা বই। এ ছাড়া গণিত, আইসিটি, বিজ্ঞান, ধর্ম, ভূগোল, বাংলা ও ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর বইও একাধিক শিক্ষার্থী পায়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী এখনো কৃষি শিক্ষা ও উচ্চতর গণিত বই পায়নি।

অভিযোগের সুরে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী বিপ্লব রায় ও মাহমুদুল ইসলাম মুরাদ জানায়, শিক্ষাবর্ষের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও তারা সব বই হাতে পায়নি। বিষয় শিক্ষকদের জানালে তারা নৈশপ্রহরীর কাছে পাঠায়। তবে সেখান থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে গাইড বই পড়ে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের।

এদিকে সরকারি অফিস সহায়ক থাকা সত্ত্বেও বই সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খণ্ডকালীন নৈশপ্রহরী রাসেল ইসলামকে। কোন শিক্ষার্থী কোন বই পেয়েছে বা পায়নি—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকাও রাখা হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশপ্রহরী জানান, তাকে যেভাবে বই সরবরাহ করতে বলা হয়েছে, তিনি সেভাবেই বিতরণ করেছেন, তার কাছে কোনো তালিকা করতে বলা হয়নি।

বই সংকটের বিষয়ে নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শ্রেণি শিক্ষক নয়ন চন্দ্র রায় ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক স্বপন চন্দ্র প্রামানিক জানান, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকলেও পরবর্তীতে বিভাগ পরিবর্তন এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে বইয়ের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বই না পাওয়ার সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি.এম রুহুল আমিন বলেন, "আমরা সকল শিক্ষার্থীকে বই দিয়েছি। যেসব শিক্ষার্থী অভিযোগ করছে, হয়তো তাদের বই হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে বিভাগ পরিবর্তনের কারণে মাঝখানে কিছু সমস্যা থাকলেও আমরা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে বই এনে দিয়েছি।"

শিক্ষার্থীদের বই না পাওয়া সংক্রান্ত অসন্তোষের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীৎ সাহা জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন